যশোরের শার্শায় চাঁদা না পাওয়ায় নবনির্মিত সড়কের ইট তুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরনগাছা গ্রামের একটি সড়কে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে আরমান হোসেন ডাবলু এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন।
সড়কের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সারুন সাপা ট্রেডার্সের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন বলেন, জিরনগাছা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে আছির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ০.৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আরমান হোসেন ডাবলু প্রথমে কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। এর এক সপ্তাহ আগে তিনি মাইকিং করে ঘোষণা দেন যে এই সড়ক যেন নির্মাণ না হয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সড়কটি নির্মাণ হলে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বাড়িতে যাতায়াত সহজ হবে।
নির্মাণ কাজ চলাকালীন ১৫ জানুয়ারি ডাবলু তার ছোট ভাইসহ অন্যদের জন্য টাকা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডাবলুর নেতৃত্বে সড়কের ইট তুলে ফেলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাবলু তার ছোট ভাই নবাব, পাশ্ববর্তী মাটিপুকুরিয়া গ্রামের সেলিম এবং কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের আরও ২০-২৫ জন যুবকের সঙ্গে একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছে। এই গ্রুপটি জিরনগাছাসহ আশেপাশের গ্রামের মানুষের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করছে। সামাজিক বা ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত না দিলে টাকা দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার মোল্যার ছেলে মোমিনুর রহমান বলেন, ‘ডাবলু একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সে এই এলাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে শার্শা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠালে এলাকাবাসী স্বস্তিতে ছিল, কিন্তু জামিনে বের হয়ে আবারও ত্রাস সৃষ্টি করছে।’
তিনি আরও জানান, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) গ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ডেকোরেটর, খাবারসহ সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ডেকোরেটরের মালামাল পৌঁছালে ডাবলু ও তার সহযোগীরা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এ সময় জিরনগাছা বাজার মোড়ে প্রকাশ্যে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ডাবলু একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। বিদেশে থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ফিরে এসে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। চাঁদার দাবিতে সে সড়ক নির্মাণে বাধা দিয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানও করতে দেননি।’
অভিযুক্ত আরমান হোসেন ডাবলুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।