পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করার জোরদার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে মালদহের সাহাপুর-মালদহ বাইপাস সংলগ্ন মাঠে বিজেপি আয়োজিত ‘পরিবর্তন সংকল্প জনসভা’ থেকে তিনি এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ডাক দেন।
মোদি তার ভাষণে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, ওডিশা, ত্রিপুরা, আসাম ও বিহারের মতো এবার পশ্চিমবঙ্গও বিজেপিকে বেছে নেবে। ২০২৬ সালে বাংলা থেকে তৃণমূলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপিই সুশাসন কায়েম করবে এবং উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝোড়ো নির্বাচনী প্রচারণার বিস্তারিত উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় গড়ার অভিযোগ তুলে বলেন, এই সরকার মূলত দরিদ্র মানুষের শত্রু। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যেমন বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বা চিকিৎসার জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প এই রাজ্যে কার্যকর করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মোদির অভিযোগ, কেন্দ্রের পাঠানো অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে লুটপাট হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূলের দুঃশাসনে বাংলার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এবং মালদহের এই জনসভা থেকেই রাজ্যের ‘আসল পরিবর্তন’ শুরু হতে যাচ্ছে।
রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে নরেন্দ্র মোদি এদিন সাংবাদিকদের ওপর হামলার কঠোর সমালোচনা করেন। জনসভায় আসার পথেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূলের গুন্ডাগিরি আর বেশি দিন সহ্য করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং স্কুল-কলেজে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য গড়তে বিজেপির বিকল্প নেই।
অনুপ্রবেশের ইস্যুটিকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে মোদি বলেন, বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশও আজ অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, তোষণ নীতির কারণে রাজ্যে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং মালদহ ও মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা বাড়ছে। বিজেপি সরকার গঠন করলে অনুপ্রবেশ রুখতে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি কড়া বার্তা দেন।
উল্লেখ্য, জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী এদিন হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন এবং ৩ হাজার ২৫০ কোটি রুপির বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আগামীকাল রোববার তার হুগলির সিঙ্গুরে টাটাদের সেই ঐতিহাসিক জমিতে জনসভা করার কথা রয়েছে।