প্রশাসনের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তালিকায় এবার জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ফলাফল পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে আপিল আবেদন দায়ের করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (কেবি) অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে এ অভিযোগ এবং আপিল দায়েরের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তবে এই আপিল আবেদনটি সরকারি বন্ধের দিন অফিসিয়াল মেইলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারি (দাপ্তরিক) মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নূর। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘ন্যায্যতা ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতার স্বার্থে ঘোষিত ফলাফল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। আমি বিগত ৩০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষা মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি, ফলাফল উন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছি। ফলে বিগত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি ময়মনসিংহ বোর্ডে সেরা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সূচক ও মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন হয়নি।’
‘এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ের ফলাফল ময়মনসিংহ বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করে বিচারকের স্বাক্ষরবিহীন একটি ফলাফল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় ফলাফলটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
তবে ঘোষিত ফলাফলে অনিয়ম এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর একেএম আলিফ উল্লাহ আহসান।
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৬টি জেলা থেকে ৬ জন শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচনের পর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচন করা হয়েছে। এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের অর্নাস-মার্স্টাস কার্যক্রম, শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং শৃঙ্খলার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন কেবি কলেজের অধ্যক্ষ। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার ব্যক্তিগত সহকারি (দাপ্তরিক) মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নূর জানিয়েছেন, ‘স্যার একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। আগামীকাল (রোববার) এ আপিল আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।’