কনকনে ঠান্ডার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারতের উত্তরাখন্ড। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, মাটির মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে তীব্রতা অনুভূত হয়েছে বেশ ভালোভাবেই।
জাতীয় সিসমোলজি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তরাখন্ডের বাগেশ্বর জেলা। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঋষিকেশ এবং ১৮৩ কিলোমিটার দূরের হরিদ্বারেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
শীতের সকালে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
জানা গেছে, ঋষিকেশ ও হরিদ্বারের বাসিন্দারাও বেশ জোরালো কম্পন অনুভব করেছেন।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী উত্তরাখন্ড ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত।
ভূমিকম্প কেন হয়?
পৃথিবীর পৃষ্ঠ প্রায় সাতটি বড় ও কয়েকটি ছোট টেকটনিক প্লেট দিয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলো চলমান থাকে এবং মাঝেমধ্যে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে।
যখন প্লেটগুলো মুখোমুখি সংঘর্ষ করে, তাদের প্রান্ত বাঁকানো বা বিকৃত হতে পারে। অতিরিক্ত চাপের কারণে কখনো কখনো প্লেট ফেটে যায়। এর ফলে মাটির নিচ থেকে যে শক্তি মুক্ত হয়, তা পৃথিবীর পৃষ্ঠে কম্পনের আকারে প্রকাশ পায়; যা আমরা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভব করি।