ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জেরুজালেম পোস্ট। সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাত দিয়ে তারা এ দাবি করে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের বড় অংশই ঘটেছে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার—মাত্র দুই রাতের মধ্যে। ঘটনাটিকে দেশটির ‘সমসাময়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ তথ্য মতে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালে বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তাদের এই হিসাবের সূত্রের মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দুইটি সূত্র এবং মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে কর্মরত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যরা। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবারের সদস্য, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য এবং বিভিন্ন শহরের চিকিৎসক ও নার্সদের বিবরণ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এইচআরএএনএ জানায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া ৬৪৬ নিহতের মধ্যে ৫০৫ জন সক্রিয় বিক্ষোভকারী, যাদের মধ্যে নয় জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ১৩৩ জন সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, একজন কৌঁসুলি এবং সাত জন বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরও ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি বা সরকারপন্থি গণমাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ৯৭টি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির ঘটনা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া বয়ান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, সহিংসতার জন্য দায়ী ‘বিদেশি শক্তি’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দাঙ্গাকারীরা’। একই সঙ্গে বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থি সমাবেশের খবরও পাওয়া গেছে।