বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের একাধিক দেশ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডেনমার্কের মিত্র গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক দখলের পথে এগোয়, তাহলে তারা সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
গ্রিনল্যান্ড ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থিত, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ধারণা প্রকাশ করে আসছেন, যুক্তি দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি প্রয়োজন। তবে, এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।
ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো একসঙ্গে পদক্ষেপ নিতে চায়। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায় রুবিও আশ্বাস দেন যে, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, গ্রিনল্যান্ডে তেমন কিছু ঘটবে না।
তবে ভেনেজুয়েলায় চালানো মার্কিন সামরিক অভিযান, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং গ্রিনল্যান্ডকে দখলের ট্রাম্পের ভাবনা নতুন করে প্রকাশের পর ইউরোপীয় মিত্ররা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড তার জনগণেরই।
ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জোহানেস কোসকিনেন এ ইস্যুতে ন্যাটোর ভেতরে আলোচনা তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, কিছু করা প্রয়োজন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র কি যৌথভাবে গৃহীত পরিকল্পনা উপেক্ষা করে নিজের ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে কি না- মিত্রদের উচিত নির্ধারণ করা।
এদিকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাসমুসেন লেখেন, বর্তমান চিৎকার-চেঁচামেচির পরিবর্তে আরও বাস্তবতা ও সংযম প্রয়োজন। তার ভাষায়, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জায়গায় এখনই যুক্তিসংগত সংলাপ দরকার।
ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড জোরপূর্বক দখলের কোনো চেষ্টা হলে সবকিছু থেমে যাবে। ন্যাটোসহ গত ৮০ বছরের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সম্পর্কও প্রশ্নের মুখে পড়বে। সম্প্রতি মার্কিন দাবির প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে রুবিও ও ডেনিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড সরকারও অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘনই মেনে নেবে না। এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের জনগণেরই। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সম্মতি ছাড়া তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না।
এদিকে মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য গ্রিনল্যান্ড কেনা। তার দাবি, শুরু থেকেই প্রেসিডেন্টের সেই অভিপ্রায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর কোনো আলোচনা শোনেননি এবং বিষয়টি কূটনৈতিক পথেই দেখা হচ্ছে।