বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ আসনে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে গণঅধিকার পরিষদ জাতিসংঘ সংস্থার সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত ২০ গ্রেডের নতুন সরকারি বেতন স্কেল দেখে নিন ইবির দুর্নীতি ও অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির ৫৯ নেতাকে বহিষ্কার দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ প্রতিবেদন পেশ বরিশালে চূড়ান্ত লড়াইয়ে ৩৬ প্রার্থী, পেলেন প্রতীক বরাদ্দ

পলাতক সাবেক মেয়র সাদিকের বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির মামলা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ দখলে রাখার অভিযোগের ‘সত্যতা’ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সাদিক আব্দুল্লাহর বরিশাল শহরের কালিবাড়ি রোডের পৈত্রিক ভবনে হামলা হয়। এবং এতে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটির ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল ইসলাম লিটুসহ তিন জন আগুনে পুড়ে মারা যান। সহকর্মীদের এই প্রাণবিয়োগের আগেই বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ জনরোষে পড়ার আশঙ্কায় সেরনিয়াবাত ভবন ত্যাগ করেন। কিছুদিন পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায়, সাদিক পালিয়ে পার্শ্ববর্তী তাদের মিত্র দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তিনি প্রথমে ভারতে গেলেও পরবর্তীতে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন।

পলাতক সাদিক আব্দুল্লাহ কোথায় আছেন এই ধোয়াশা পরিষ্কার হওয়ার আগেই বরিশাল এবং রাজধানী ঢাকায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ছেলে সাদিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। সেইসব মোকদ্দমা চলামান থাকার মধ্যে এবার বরিশাল আওয়ামী লীগের পলাতক এই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সংস্থাটির উপ-পরিচালক এসএম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় মামলাটি করেন। সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, দুদক আইনের ২৬(১) ধারায় বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একই আইনের ২৬(২) ধারায় ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত’ হয়। এর আগে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য সাদিক আবদুল্লাহর নামে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয়।

নোটিশ পৌঁছে দিতে ২৬ অক্টোবর দুদকের একজন কনস্টেবল রাজধানী ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের কালিবাড়ি সেরনিয়াবাত ভবনে গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরমের মূল কপি বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। দুদকের ওই সূত্রটি জানায়, ৪ নভেম্বর নোটিশ জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি সাদিক আবদুল্লাহ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তার ক্ষমতার ৫ বছরে তিনি বরিশাল শহরবাসীর ওপর অনৈতিকভাবে ব্যাপক ছড়ি ঘুরিয়েছেন। বিশেষ করে শহর উন্নয়ন বাদ দিয়ে সাদিক বহুতল বাসা-বাড়ির নকশা আটকে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেন। এবং দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকদের শায়েস্তা করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সাদিক আব্দুল্লাহ বিপুলসংখ্যক ক্যাডার বাহিনী নিয়ে শহরে ভীতিকর সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করেন। বিশেষ করে ১৮ জুলাই তার নেতৃত্বে শহরের চৌমাথা এলাকায় বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়া সিকদারের ওপর হামলা ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তৎকালীন সাদিকের নেতৃত্বে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়।

উল্লিখিত, বরিশালের আলোচিত এই দুটি ঘটনায় সাদিক এবং তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশালে ও ঢাকায় তার বিরুদ্ধে আরও অসংখ্য মামলা হয়, যা বিচারাধীন আছে। পলাতক সাদিকের বিরুদ্ধে এবার সবশেষে মামলা করল দুর্নীতি দমন কমিশন।

দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানতে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত হোটসঅ্যাপ নম্বরে দিলে কল করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব দেখা যাচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বার্তা ফেসবুকে শেয়ার করাসহ মাঝে মাঝে বিশেষ দিনে পোস্টও করে থাকেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাদিক কীভাবে বরিশালের কালিবাড়ির বাসা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি, এবং বর্তমানে ভারতে না কি আমেরিকা অবস্থান করছেন, তা তিনিও পরিষ্কার করেননি। ফলে বরিশালের সাবেক এই জনপ্রতিনিধির আশ্রয়স্থল নিয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ধোয়াশা রয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102