ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল জয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, তার দেশ ভেনেজুয়েলা আগামীতে আমেরিকার জ্বালানিকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কে একটি সামরিক অভিযানে তুলে আনা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো এ মন্তব্য করেন।
মাচাদো মনে করেন, মাদুরোর আটক ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য একটি মাইলফলক। তিনি বলেন, “‘৩ জানুয়ারি’ তারিখটি আমাদের ইতিহাসে ‘ন্যায়বিচারের কাছে অত্যাচারের পরাজয়’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।”
ফক্স নিউজের শন হ্যানিটিকে তিনি জানান, ‘আমরা ভেনেজুয়েলাকে আমেরিকার জ্বালানিকেন্দ্রে রূপান্তর করব।’ মাচাদো আরও বলেন, একটি মুক্ত ও স্বাধীন ভেনেজুয়েলা মানে প্রথমত, একটি নিরাপত্তা সহযোগী রাষ্ট্র, যা আমেরিকার অপরাধমূলক কেন্দ্রগুলোকে নির্মূল করবে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি জানান, ‘দ্বিতীয়ত, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, বাজার উন্মুক্ত করব এবং বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। তৃতীয়ত, দেশত্যাগী ভেনেজুয়েলানদের ফিরিয়ে এনে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা হবে।’
মাচাদো আরও বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিণত করতে চান।
শনিবার মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করার পর সোমবার তাকে নিউইয়র্কের আদালতে বিচার করা হয়। বর্তমানে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, যাকে সেনাবাহিনী ও ট্রাম্প প্রশাসন সমর্থন করছে।
মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মাচাদো দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের কারণে মাচাদো আপাতত শাসনভার থেকে দূরে রাখা হয়েছে। মাচাদো ফক্স নিউজকে বলেন, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।