শুধু মিছিল-মিটিংয়ের উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদীর নাম ব্যবহার করে সংগঠন গড়ে তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সংশ্লিষ্ট পেশার মানুষদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, সংগঠন মানেই শুধু ব্যানার, স্লোগান কিংবা কর্মসূচি নয়। সংশ্লিষ্ট পেশার মানুষ যেন সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সম্মান নিয়ে জীবনযাপন করতে পারে এবং পুলিশি হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দল আয়োজিত সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয় দরিদ্র, খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। এসব মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্ত করতে এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে মোটরযান চালক পেশাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের অনেক উচ্চশিক্ষিত তরুণ যারা বিএ, এমএ পাস, এমনকি ইঞ্জিনিয়ার ও চিকিৎসক ট্যাক্সি বা রাইড শেয়ারিংয়ের মতো পেশায় যুক্ত হয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন। সেখানে পেশার ভিত্তিতে কোনো শ্রেণিবিভাজন নেই। একজন ট্যাক্সিচালক ও একজন পেশাজীবীর সামাজিক মর্যাদা সমান।
রিজভীর মতে, এমন একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেও যারা এখনো চাকরি পাননি, তারা উন্নত দেশের মতো এখানেও উবার বা ট্যাক্সি চালিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন। যতদিন না অন্য চাকরি হচ্ছে, ততদিন স্বাধীন পেশায় যুক্ত থেকে নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। তবে এর জন্য রাষ্ট্রকে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মীর সরাফত আলী শফু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আরিফুর রহমান তুষারসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।