জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাতপরিচয় ১১৪ মরদেহের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিম তাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত একাধিক নারী-পুরুষ শহীদের কিছু অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়।
পরে এই কার্যক্রমের জন্য মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদানকারী বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক মরিস টিডবলকে সামগ্রিক কর্মযজ্ঞ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমগুলোকে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
সিআইডি আরও জানায়, শহীদদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহ উত্তোলনের অনুমতি দেন। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ইউএনএইচসিআর) সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফন্ডিব্রিডারের নেতৃত্বে ও মিনেসোটা প্রটোকল অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে মৃতদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ওই সময় প্রতিটি মৃতদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সেই সঙ্গে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আটজন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া অবশিষ্ট মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান। এই উদ্যোগের ফলে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।