রাজশাহীতে চাঁদা চাইতে গিয়ে পিটুনির শিকার হয়েছেন এক বিএনপিকর্মী। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পিটুনির শিকার বিএনপিকর্মীর নাম আতাবুর রহমান। তার বাসা নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা মহল্লায়। তিনি নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেনের অনুসারী।
আতাবুর রহমান বিকেলে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কথা বলতে তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
আজাদ আলীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পরপরই আতাবুর রহমান তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ বিষয়ে আজাদ আলী বলেন, ‘আজই কাজ শুরু করেছি। এমন সময় আতাবুর এসে বলেন, কাজ করতে হলে তাকে টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে ভেকু গাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।’
তিনি আরও বলেন, “আমি তাকে বলি—‘আমিও বিএনপি করি, তুইও বিএনপি করিস। তাহলে কীসের টাকা?’ এ কথার পর আমাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। আতাবুর চাঁদা চাইতে এসেছে—এমনটা বুঝতে পেরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজনই তাকে মারধর করেছে।”
আজাদ জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব হোসেন পবা থানায় যান। এটি দেখে আতাবুর তার লোকজন নিয়ে এসে থানার সামনেই তাদের মারধর করেন। সন্ধ্যায় তারা থানাতেই ছিলেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে মীমাংসা করে নিতে বলছে বলে তিনি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, আতাবুর মাদক কারবারি। ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন। তাকে বিএনপির কেউ কেউ প্রশ্রয় দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজাদ যুবদলকর্মী, আতাবুরও বিএনপিকর্মী। তার কাছে চাঁদা চাইতে যাওয়ার তো মানে হয় না। ৫ আগস্টের পর সে মানুষকে যে অত্যাচার করেছে! যাকে-তাকে বলে, তুই আওয়ামী লীগ। যাহোক, এসব কথা বলতে চাই না। যারা আতাবুরকে শেল্টার দেয়, তারা ভাগ খেয়ে বসে থাকে।’
পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, ‘মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কী নিয়ে ঘটনা তা অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত বলতে পারছি না। অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে।’