মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘শিগগির’ গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছাতে চান। এ সময় দ্রুত হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সশস্ত্র গোষ্ঠিীটিকে নরক যন্ত্রণা ভুগতে হবে বলে সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে—এমন শর্তের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চলমান হামলা সত্ত্বেও ইসরায়েল পরিকল্পনাটি শতভাগ মেনে চলছে।’
গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি অক্টোবরে কার্যকর হয়। দ্বিতীয় ধাপে বিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে একটি টেকনোক্র্যাটিক (প্রযুক্তিবিদ-নির্ভর) সরকার গঠন করা হবে, হামাস নিরস্ত্র হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে। এরপর শুরু হবে গাজার পুনর্গঠন।
তবে সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে দেরি করতে পারেন এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাপ দিতে পারেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনায় না বসার অভিযোগও করা হয়েছে।
হামাস কর্মকর্তারা বলেছেন, পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির সঙ্গে সমান্তরালে হতে হবে।
ইসরায়েল কি দ্বিতীয় ধাপে যেতে যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না—এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল পরিকল্পনাটি মেনে চলছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল যা করছে তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। আমি উদ্বিগ্ন অন্যরা কী করছে বা হয়তো করছে না—তা নিয়ে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ।
গাজার অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবেই গুলি চালিয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার জন্য তারা হামাসকে দায়ী করেছে।