ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১) গত ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেছিল। রায়ে একটি অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড ও আরেকটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশন এখন ওই যাবজ্জীবন সাজা মৃত্যুদণ্ডে পরিণত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।
আইসিটির প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম সাংবাদিকদের জানান, যে অভিযোগে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, সেটি মৃত্যুদণ্ডে পরিণত করার জন্য আটটি যুক্তি প্রদর্শন করে আপিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এই আপিল ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার নিয়ম রয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে দমন করার নির্দেশ, রংপুরে একজন ছাত্রকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর ঘটনা।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক থাকলেও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি এবং তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে মামলা পরিচালনায় সহায়তা করছেন।
ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেল ঘোষণা করেছিল, শেখ হাসিনা ও কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য একটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন মনে করছে, তাদের কার্যকলাপে মৃত্যুদণ্ডই ন্যায়সংগত হবে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। অন্য দুই বিচারক ছিলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।