শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

দাদার সঙ্গে গোসলে নেমে কর্ণফুলীতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী নদীতে দাদার সঙ্গে গোসল করতে নেমে মোসকান নামে এক সাত বছরের শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। 

শনিবার (১৬ মে) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিলছড়ি চেয়ারম্যান ঘাঁটা সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শিলছড়ি ভেলুয়াছড়া এলাকার সিএনজি চালক মো. মুছার মেয়ে মোসকান প্রতিদিনের মতো শনিবারও তার দাদা মো. ইউসুফের সঙ্গে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে যায়। দুপুরের দিকে নদীর পাড়ে স্বাভাবিকভাবেই গোসল করছিলেন তারা। একপর্যায়ে শিশুটি দাদার অজান্তে নদীর একটু গভীর অংশে নেমে যায়। সাঁতার না জানার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই পানির স্রোতে তলিয়ে যায় সে।

প্রথমদিকে শিশুটির দাদা ধারণা করেছিলেন, মোসকান হয়তো গোসল শেষ করে বাড়িতে ফিরে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে তিনি দ্রুত নদীর পাড়ে ফিরে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নদীর পানিতে শিশুটিকে ভাসতে দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হাসপাতালে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা বারবার মূর্ছা যেতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন জানান, মোসকান ছিল পরিবারের অত্যন্ত আদরের সন্তান। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার বিষয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সরোয়ার বলেন, ‘খুবই মর্মান্তিক একটি ঘটনা। শিশুটি দাদার সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নদীতে তলিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এমন দুর্ঘটনায় এলাকাবাসীও গভীরভাবে শোকাহত।’

ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি।’

এদিকে শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে গিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত মানুষ গোসল ও দৈনন্দিন কাজে নদীতে নামলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শিশুদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মোসকানের মৃত্যুতে শিলছড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট্ট শিশুটির অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102