রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

গাজীপুর ফাইভ মার্ডার : পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ফোরকানের, মরদেহ মেলেনি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. ফোরকান মোল্লা (৪০) হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে এমন দৃশ্যের দেখা মেলার দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান মোল্লার সঙ্গে একই জেলার পাইককান্দি গ্রামের মোছা. শারমিন (৩৫) এর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান— মীম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) ছিল। দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো।

প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক মো. রসূল মোল্লা (২২) কে গার্মেন্টে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ৮ মে রাত থেকে ৯ মে ভোরের মধ্যে যেকোনো সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা মো. শাহাদৎ মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. যোবায়েরের ওপর।

ঘটনার পর গাজীপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম তদন্তে নামে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। নিহত পাঁচজনের মরদেহের সুরতহাল শেষে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১১ মে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি এলাকায় রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিজের কাছে রাখেন।

পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। তদন্তে ওই ব্যক্তিকে ফোরকান মোল্লা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ফোরকান পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। এ বিষয়ে পদ্মা সেতু সংলগ্ন থানাগুলোতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102