জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্ড’ নামের ১৪২ মিটার (৪৬৫ ফুট) দৈর্ঘ্যের এই প্রমোদতরিটির দাম ৫০ কোটি ডলারের বেশি। মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের তথ্য বলছে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ‘নর্ড’ প্রমোদতরি গ্রিনিচ মান সময় বেলা ২টার দিকে দুবাইয়ের মেরিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। গত শনিবার সকালে এটি প্রণালিটি পার হয়। গত রোববার ভোরে এটি ওমানের মাসকাটে পৌঁছায়।
কয়েক তলাবিশিষ্ট এই বিলাসবহুল প্রমোদতরি কীভাবে এই পথ ব্যবহারের অনুমতি পেল, তা স্পষ্ট নয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেলের চাহিদার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই জলপথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়।
ইস্পাতশিল্পের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মরদাশভের এক প্রতিনিধির কাছে সোমবার বিষয়টি নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি (প্রধানত পণ্যবাহী) জাহাজ চলাচল করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, সেই তুলনায় বর্তমান সংখ্যা খুবই সামান্য।
রাশিয়া ও ইরান দীর্ঘদিনের মিত্র। বিগত কয়েক বছরে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তান ও ওমানে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ায় যান।

পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মর্ডাশভ দাপ্তরিকভাবে ‘নর্ড’-এর মালিক হিসেবে তালিকাভুক্ত নন। তবে ২০২৫ সালের জাহাজের তথ্য এবং রাশিয়ার করপোরেট রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায়, ২০২২ সালে জাহাজটি মরদাশভের স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ছিল।
এই প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার চেরেপোভেট্স শহরে নিবন্ধিত। সেখানে মরদাশভের ইস্পাত কোম্পানি ‘সেভারস্টাল’-এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
ইউক্রেন আক্রমণের পর পুতিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেসব রুশ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল, মর্ডাশভ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
শিল্পবিষয়ক সাময়িকী ‘সুপারইয়ট টাইমস’ জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম বড় এই ইয়টটিতে ২০টি বিলাসবহুল কক্ষ, ১টি সুইমিং পুল, ১টি হেলিপ্যাড এবং ১টি সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ রয়েছে।







