ইরান-আমেরিকার সংঘাতের প্রভাব এবং বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলে পরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই চট্টগ্রামে বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন মালিকরা ইতোমধ্যে যাত্রীভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রুটে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়াও অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
ফলে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুধু ডিজেল বা অকটেনচালিত যানবাহনই নয়, সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়াও অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। অথচ গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও সরকার এখনো ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে পূর্বনির্ধারিত সরকারি ভাড়ার নির্দেশনা অনেক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক মানছেন না।
গত শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা রোববার থেকে কার্যকর হয়।
নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, ২০২২ সালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল, যা ওই বছরের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এরপর জ্বালানির দাম একাধিকবার কমলেও বাসভাড়া কমানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে শিকলবাহা ক্রসিং (১০ কিলোমিটার) পর্যন্ত ভাড়া ২২ টাকা, পটিয়া বাস স্টেশন (২৭ কিলোমিটার) পর্যন্ত ৫৯ টাকা এবং সাতকানিয়ার কেরানীহাট (৫১ কিলোমিটার) পর্যন্ত ১১২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
তবে স্থানীয় পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। শিকলবাহা রুটে ২২ টাকার পরিবর্তে ৩০-৩৫ টাকা, পটিয়া রুটে ৫৯ টাকার পরিবর্তে ৭০-৭৫ টাকা এবং কেরানীহাট রুটে ১১২ টাকার পরিবর্তে ১৪০-১৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর পণ্য পরিবহন খাতে ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে পরিবহন খরচ ইতোমধ্যে বেড়ে যায়, যার ফলে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর চাপ আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ী কামরুল হাসান জানান, আগে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে চাল পরিবহনে ট্রাক ভাড়া ছিল ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফ রুটেও পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ দাবি করা হচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকদের এমন আচরণের কারণে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়ছে।