ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, এই জলপথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রণালি খোলা ও আবার নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, এই অবরোধ চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত সব জাহাজকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো জাহাজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে সেটিকে শত্রুপক্ষকে সহায়তা হিসেবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিদেশি চাপের মাধ্যমে নেওয়া অবরোধকে তিনি অযোগ্য ও ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্বল্প সময়ের জন্য প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছিলেন, যার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
এই সময়ের মধ্যে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে। পরে পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওই এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে, যেগুলো ভারতীয় পতাকাবাহী ছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বিভিন্ন জাহাজে রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে এবং প্রণালির দিকে অগ্রসর না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে কোনো দেশ রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতি শেষ হতে পারে এবং অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব বলেছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত এবং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।