হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সামুদ্রিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক শিপিং পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও নৌবাণিজ্য পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শিপিং মনিটরিং সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স এবং ব্রিটিশ নৌবাণিজ্য সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময়। ওই সময় একটি ভারতীয় পতাকাবাহী সুপারট্যাঙ্কারসহ একাধিক জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছিল বলে জানা গেছে।
ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং আইআরজিসির গানবোট থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এরপর সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো পশ্চিম দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, ইউকে এমটিও জানায়, ঘটনাটি ভারতীয় দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ—‘জাগ অর্ণব’ এবং ‘সানমার হেরাল্ড’-এর সঙ্গে ঘটে। এর মধ্যে ‘জাগ অর্ণব’ একটি সম্ভাব্য আক্রমণের শিকার হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তবে ‘সানমার হেরাল্ড’ কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোনো ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত ছিল না। তবে বর্তমানে ওমান উপসাগর অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচলের পক্ষে ভারত অবস্থান বজায় রাখছে।
তারা আরও জানান, আক্রান্ত জাহাজের কাছাকাছি আরেকটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার থাকলেও সেটি নিরাপদে ছিল।