ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরুর প্রাক্কালে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব ও অধিকারের প্রশ্নে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার লখিমপুর খেরিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো দলগুলো রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে।
লখিমপুর খেরির মোহাম্মদী ও পালিয়া কালানে আয়োজিত জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ ১,০৩১টি উদ্বাস্তু পরিবারের হাতে জমির মালিকানা বা পাট্টা তুলে দেন। এই পরিবারগুলো মূলত ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
যোগী বলেন, “কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি বা তৃণমূলের মতো দলগুলো তখন নীরব থাকে যখন পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈনদের ওপর হামলা হয়। যারা প্রাণের ভয়ে ভারতে এসেছেন, তাঁদের এই দলগুলো কোনোদিন সম্মান দেয়নি। কিন্তু মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার তাঁদের শুধু নাগরিকত্বই নয়, সম্পত্তির অধিকারও দিচ্ছে।”
হিন্দুত্ববাদী এই বিজেপি নেতা জানান, লখিমপুর খেরিতে বাঙালি শরণার্থীরা যে কলোনিতে বসবাস করেন, কংগ্রেস সেটির নাম রেখেছিল ‘মিয়ানপুর’।
আদিত্যনাথ ঘোষণা করেন, “সেখানে কোনো মুসলিম নেই, তাই এই কলোনির নাম পরিবর্তন করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মানে ‘রবীন্দ্র নগর’ রাখা হবে।” উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৬,৫০০ পরিবারের সবাইকেই পর্যায়ক্রমে জমির অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিরোধিতার কড়া সমালোচনা করে যোগী বলেন, ভোটব্যাংকের স্বার্থেই এই দলগুলো শাহিনবাগের মতো আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল এবং সিএএ-র বিরোধিতা করেছিল। মোদী সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কারণেই আজ উদ্বাস্তু হিন্দু ও শিখরা ভারতের নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর কথিত ‘অস্থিরতা’ নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “১৯৭১ সালে একবার পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছে, এখন সেখানে হিন্দু-শিখদের ওপর অত্যাচারের কারণে দেশটি ফের বিভক্তির মুখে। বাংলাদেশেও হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু কংগ্রেস-তৃণমূলের তাতে কিছু যায় আসে না।”
রবিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর দিয়ে যোগী তাঁর বাংলা সফর শুরু করছেন। প্রথম দুই দফার নির্বাচনে তিনি রাজ্যে অন্তত ২০টি জনসভা করবেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে। এদিন তিনি তরাই অঞ্চলের থারু উপজাতির ৪,৩৫৬টি পরিবারের মধ্যেও জমির প্লট বিতরণ করেন এবং মোট ১,৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।