শনিবার (১২ এপ্রিল) এই জেনারেল অভিযোগ করেন যে, তুরস্ক সোমালিয়ায় অবকাঠামো ও বন্দর চুক্তি থেকে মুনাফা অর্জন করছে, অথচ উগান্ডার সেনারা গত দুই দশক ধরে সেখানে আল-শাবাব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রাণ দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে কাইনেরুগাবা লেখেন, উগান্ডার সামরিক অবদানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তুরস্কের উচিত তাদের ১০০ কোটি ডলার প্রদান করা। তিনি আরও যোগ করেন, “তুরস্কের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের পাশাপাশি, আমি সেই দেশের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে চাই।” যদিও পরবর্তীতে তিনি এই পোস্টটি মুছে ফেলেন।
এর আগের এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “তাদেরকে আমাদের অর্থ পরিশোধ করতে দিন এবং স্ত্রীদের সমর্পণ করতে দিন! তবেই তারা শান্তিতে থাকবে।”
তুরস্ক বর্তমানে অবকাঠামো প্রকল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং মোগাদিশুর বন্দর ও বিমানবন্দর পরিচালনার মাধ্যমে সোমালিয়ার সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে কাইনেরুগাবা বলেন, “আমি তুরস্কের সাথে সংঘাত চাই না। তবে আমাদের বিরুদ্ধে টিকে থাকার কোনো সুযোগ তাদের নেই।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তার দাবি পূরণ না হলে কাম্পালায় তুরস্কের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করা হবে। এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আসল সমস্যা হলো তুরস্ক! আমরা তাদের সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তারা আমাদের সমস্যার সমাধান না করলে আমরা তুরস্কের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক শেষ করতে যাচ্ছি।”
কাইনেরুগাবা আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সাথে দেখা করার প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, “এক বছরের মধ্যে আমাকে ইস্তাম্বুলে নায়ক হিসেবে স্বাগত জানানো হবে! আমি এমনকি আমার চাচা প্রেসিডেন্ট এরদোগানকেও অভিবাদন জানাব।”
উল্লেখ্য, জেনারেল কাইনেরুগাবা এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছেন। ২০২২ সালে তিনি কেনিয়া আক্রমণ করে ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে নাইরোবি দখল’ করার হুমকি দিয়েছিলেন।
সেই ঘটনার পর তার বাবা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন এবং তাকে সাময়িকভাবে কমান্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে গবাদি পশুর বিনিময়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েও সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন।
সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস