কক্সবাজারে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ কুখ্যাত ডাকাত পারভেজ বাহিনীর ১০ সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ৩ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি পৃথক অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও সিমেন্টসহ ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নৌকাডুবির শিকার ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৯টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কক্সবাজার কলাতলী বিচ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক ফিশিং বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে বোটটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত গভীর সমুদ্রে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটি আটক করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে বোটে তল্লাশি চালিয়ে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় কুখ্যাত ডাকাত পারভেজ বাহিনীর ১০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছে জিম্মি থাকা বোটসহ ৩ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, একই দিন রাত ১২টা ও ভোর ৩টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম এবং কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালী পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার শাহ আমানত ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা এবং কক্সবাজারের বাকখালী নদীর মোহনা এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে সন্দেহজনক দুটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও সিমেন্ট জব্দ করা হয়। প্রথম বোট থেকে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্যের ৫ হাজার লিটার ডিজেল, ৫৪ লিটার ইঞ্জিন কুল্যান্ট, ৭০ লিটার গিয়ার অয়েল, ৪০ লিটার সুপার মোটর অয়েল, একটি ডিজেল ইঞ্জিন ও ৪টি গ্যাস সিলিন্ডারসহ ৫ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। দ্বিতীয় বোট থেকে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে গত ৯ এপ্রিল দুপুর ১টায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে কয়েকজন মানুষকে পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ভাসতে দেখে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এতে ৮ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে, শনিবার রাত ২টায় উদ্ধারকৃতদের গভীর সমুদ্রে টহলরত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত ডাকাত ও পাচারকারী, জব্দকৃত বোট ও মালামাল এবং উদ্ধারকৃত জেলে ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।