পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে এরই মধ্যে পৌঁছেছে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদল। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে বসছে উভয় দলের শান্তি বৈঠক। এই আলোচনার ফলাফল জানতে গোটা বিশ্ব এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
তবে আলোচনায় আদৌ কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই শান্তি আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে কী ঘটবে? ইরানে কি আবারও বড় ধরনের হামলা চালাবে আমেরিকা? এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমাদের এখন কোনো বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। ইরান এই যুদ্ধে আগেই হেরে গেছে। তাদের সামরিক বাহিনীর কোমর ভেঙে দিয়েছে মার্কিন সেনা। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও এখন অনেক কম। শুধু তাই নয়, তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। আমরা ইরানে বড়সড় আঘাত হেনেছি। মার্কিন বাহিনী যা করেছে, তা এক কথায় বলতে গেলে অভূতপূর্ব।
যদিও একাধিক রিপোর্টে বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন করছে আমেরিকা। তাহলে কি গোপনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো পরিকল্পনা করছেন—এ নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের ৭০ সদস্যের প্রতিনিধিদল। নেতৃত্বে রয়েছেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তেহরান সঙ্গে এনেছে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও।
অন্যদিকে, আজ ভোরে ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে মার্কিন বিশেষ বিমান। আমেরিকার প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং স্থানীয় জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ইসলামাবাদে আয়োজিত এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইরান। সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানের সদিচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গালিবাফ।
তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, আমেরিকাকে তারা পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। সেই কারণেই শান্তি বৈঠকের জন্য কিছু শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে-লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির দাবি। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সেনা মোতায়েন বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে না আমেরিকা।
বৈঠকের আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘আমরা আলোচনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমার মনে হয়, ইতিবাচক বৈঠক হবে।’