সত্যি বলতে, আমার সবচাইতে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নির্বোধ লোক আছে যারা প্রশ্ন তোলে, কেন আপনি এটা করছেন? তারা আসলে নির্বোধ।
– এফটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ট্রাম্প রোববার (২৯ মার্চ) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে সাক্ষাৎকারটি দেন। এতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক আগ্রাসনকে এ বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন। সেই অভিযানে লাতিন আমেরিকার দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে ধরে আনার পর ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।
ইরানে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির খারগ দ্বীপ দখল করতে হবে। ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগই এখান থেকে হয়।
এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। পেন্টাগন ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এই সেনারা ভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত।
গত শুক্রবার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা অঞ্চলটিতে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা রয়েছেন। আরও ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা পথে রয়েছেন। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনাকেও অঞ্চলটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে। এমনও হতে পারে যে সেখানে (খারগ দ্বীপে) আমাদের কিছু সময় অবস্থান করতে হবে।’
খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারব।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। হামলায় ২৭০ মিলিয়ন ডলারের একটি মার্কিন ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা নতুন মাত্রার উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বৈশ্বিক জ্বালানি–সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
ইরানের তেলশিল্প দখলের হুমকি দিলেও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানি ‘প্রতিনিধিদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা করবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের প্রায় তিন হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি আছে। আমরা ইতিমধ্যে ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি। আরও কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে। একটি চুক্তি দ্রুতই করা সম্ভব।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘উপহার’ হিসেবে ইরান পাকিস্তানের পতাকাবাহী ১০টি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ট্যাঙ্কারের সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ২০–এ দাঁড়িয়েছে।
যদিও ট্রাম্পের এ দাবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশের অন্যতম শীর্ষ যুদ্ধকালীন নেতা মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ অতিরিক্ত ট্যাঙ্কারগুলো অনুমোদন দিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে এবং পরবর্তী হামলাগুলোতে ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ায় দেশটিতে ইতিমধ্যে শাসকের পরিবর্তন ঘটেছে। ইরানের যাদের সঙ্গে এখন তারা আলোচনা করছেন, তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানুষ, তারা খুবই পেশাদার।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবার দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয় মারা গেছেন অথবা তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় আছেন।
তবে তেহরান জোর দিয়ে বলে আসছে, মোজতবা খামেনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। যদিও মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তাকে নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।







