বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

বাসরঘরে ঢুকতেই আকাশ থেকে পড়লেন যুবক

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

বিয়ের বাসর রাতে কনে বদলের এক অদ্ভুত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। কনেকে পছন্দ করে বিয়ে করার পর বাসরঘরে তার মুখ ধোয়ার পর তাকে চিনতে না পারার দাবি করেন বর রায়হান কবির। বরের অভিযোগ, মেকআপের আড়ালে তাকে অন্য মেয়ে গছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই অভিযোগের বিপরীতে কনের পরিবারের দায়ের করা মামলায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালতে জামিন চাইতে গেলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে বর রায়হান কবিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাই মাসের শেষের দিকে। পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের জন্য তার পরিবার পাত্রী খুঁজছিল। ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারের সঙ্গে তাদের সম্বন্ধের আলাপ হয়।

রায়হানের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে তাদের প্রথমবার পাত্রী দেখানো হয়েছিল এবং সেই তরুণীকে পছন্দ হওয়ার পরই ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বাসর রাতে ঘটে বিপত্তি।

রায়হান অভিযোগ করেন, কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন যে, এই মেয়েটি সেই মেয়ে নয় যাকে তিনি বিয়ের আগে দেখেছিলেন।

রায়হানের মামা বাদল মিঞা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় কনের মুখে অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি। কিন্তু বাসর রাতে কনে মেকআপ তোলার পর প্রতারণার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়।

তাদের দাবি, ঘটক ও কনের বাবা যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এই অভিযোগ তুলে বিয়ের পরদিনই কনেকে তার বাবার বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক বরপক্ষের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষের প্রায় ৭০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তখন কেউ কনেকে দেখে কোনো প্রশ্ন তোলেননি, অথচ বাড়িতে গিয়ে তারা কনে বদলের কথা বলছেন।

জিয়ারুল হকের অভিযোগ, মূলত বিয়ের পর বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। তিনি জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু বরপক্ষ সময় না দিয়ে উল্টো তার মেয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছে।

ঘটক মোতালেবও এ ঘটনায় নিজের দায় অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো ভুল মেয়ে দেখাননি এবং দুই পরিবার নিজেদের মতামতের ভিত্তিতেই বিয়ে সম্পন্ন করেছিল।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে বর রায়হান কবিরের জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, প্রতারণার পাল্টা অভিযোগে জামিন চাওয়া হলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আপস বা রফাসূত্র না মেলায় শেষ পর্যন্ত বরকে কারাগারে যেতে হলো। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102