দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মচারীরা পাচ্ছেন মহার্ঘ ভাতা। নতুন পে-স্কেল ঘোষণার আগেই বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ভাতা পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণা না করায় বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা প্রদান চলবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে, এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি অনেক আলোচনায়ছিল। মূল প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ, দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন। তবে পে স্কেল ঘোষণার কারণে এই ঘোষণা স্থগিত হয়।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর। এর আগে ২০০৯ সালে সপ্তম বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে।
তবে অষ্টম বেতন কাঠামো ঘোষণার ৯ বছরের বেশি সময় পার হলেও নতুন কাঠামো না আসায় অনেকের বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছেছে। এজন্য ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পে কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত হয়নি। কমিশনকে সময় মতো চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে বলা হয়েছে। এতে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে বিবেচনায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রতিবেদন অনুযায়ী নবম পে স্কেল কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।” অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, পে কমিশনের প্রস্তাব আগামীতে বেতন কাঠামোর মূল রেফারেন্স হবে।