পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটার অদূরে গঙ্গামতি লেকসংলগ্ন সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘেঁষে কাঠের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাইর মার্কেটের পশ্চিম পাশে গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে এ নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে স্থাপনার খুঁটি বসানো হয়েছে। চলছে কাঠের পাটাতন তৈরির কাজও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংরক্ষিত বন ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের এত কাছে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা চোখে পড়েনি। এতে গঙ্গামতির ম্যানগ্রোভ বন, লেক ও আশপাশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেখা যায়, গঙ্গামতি লেকের পাশে সবুজ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘেঁষে কাঠের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণাধীন অংশে কাঠের পাটাতন বসানোর কাজও চলছে। তবে স্থাপনাটি কে বা কারা নির্মাণ করছেন, এর উদ্দেশ্য কী কিংবা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন রয়েছে কি না- এ বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ স্পষ্ট করে বলতে রাজি হননি।
পরিবেশকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল একটি পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। ম্যানগ্রোভ বন ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের পাশে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে বন ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও হুমকিতে পড়বে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
গঙ্গামতি বিটের বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, স্থাপনা নির্মাণের প্রথম দিনই তিনি সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বাধা দিয়েছিলেন। তবে তারা জায়গাটি নিজেদের জমি দাবি করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের জন্য বন বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।