রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গী মাঠে বিশ্ব ইজতেমাসহ ৭ দাবি সাদপন্থিদের শেরপুরে রাস্তার ধারের চৌকিতেই কাটে রহস্য মানব শহীদের দিনরাত আলফাডাঙ্গায় চায়ের দোকানদারকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩ বগুড়ার শেরপুরে দুই নেত্রীর মারামারির ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ১২ হাজার প্রবাসীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো সৌদি গরুর ঘরেই বসবাস, অসহায় সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন সালথার ইউএনও দেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে নারীদের সামনে আনতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছে সরকার : নিতাই রায় চৌধুরী সৌদিতে হুথি হামলার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই : শাহে আলম

শেরপুরে রাস্তার ধারের চৌকিতেই কাটে রহস্য মানব শহীদের দিনরাত

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ কিংবা কনকনে শীত- সবই যেন তার কাছে এক সমান্তরাল বাস্তবতা। মাথার ওপর সামান্য একটা পলিথিন টানিয়ে পথের ধারে কাঠের চৌকিতে শুয়ে কাটছে জীবন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন একজন পথশ্রান্ত মানুষ। কিন্তু কাছে গেলেই উন্মোচিত হয় এক নিদারুণ করুণ চিত্র। এটি কোনো ক্ষণিক বিশ্রামাগার নয়, এটাই গত সাত বছর ধরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও এলাকার পলাশীকুড়া গ্রামের বাসিন্দা শহীদ মিয়ার (৭০) একমাত্র ঠিকানা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন সন্তানের জনক শহীদ মিয়ার জীবন বদলে যায় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর। মানসিক ট্রমা থেকে ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর থেকেই ঘরসংসার ছেড়ে নিঃসঙ্গ জীবন বেছে নেন।

সন্তানরা তাকে কয়েকবার নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চার দেয়ালের বন্দিদশা সইতে পারেননি তিনি; বারবার পালিয়ে এসেছেন খোলা প্রান্তরে, ঘুরে বেরিয়েছেন পাহাড়ের নির্জন সব জায়গায়।

​স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম জানান, শহীদ দীর্ঘদিন পাহাড়ি এলাকায় একা একা বসবাস করেছেন। বুনো হাতি, সাপ বা হিংস্র কোনো জীবজন্তুও কখনো তার ক্ষতি করেনি বা তিনিও কাউকে ভয় পাননি। বিগত সাত বছর ধরে তিনি এই পলাশীকুড়া গ্রামের পথের ধারেই অবস্থান করছেন।

নিজের কোনো জমিজমা নেই। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে আনা সামান্য চাল-ডাল ইটের চুলায় নিজে ফুটিয়ে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে রাখছেন। স্থানীয় এক বিএনপির নেতা থাকার জন্য একটি চৌকি বানিয়ে দিয়েছেন।

​কথা বলার চেষ্টা করলে শহীদ মিয়া নিচু স্বরে অস্পষ্টভাবে বিড়বিড় করেন, যার অর্থ উদ্ধার করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। নিভৃতচারী ও রহস্যময় এই মানুষটির এই চরম কষ্টকর জীবনে সামান্য মানবিক সহযোগিতার আকুতি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগে কিংবা সমাজের কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি অন্তত তার চৌকিটির ওপর একটি স্থায়ী ছাউনি বা ছোট্ট একটি ঘর তুলে দিতেন, তবে জীবনের শেষ দিনগুলোতে কিছুটা আরাম ও আশ্রয়ের সুযোগ পেতেন এই অসহায় মানুষটি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102