রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

হিমবাহ ধসে নেপাল-তিব্বতে যেভাবে নেমে এলো ভয়াবহ বিপর্যয়

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বিশাল একটি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিমবাহের বরফ, পাথর, পলি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ তীব্র গতিতে উপত্যকার মধ্য দিয়ে নেমে এসে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং নেপালের ভাটির জনপদগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।

কীভাবে শুরু হলো বিপর্যয়

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেপালের তিব্বত-সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ভেঙে উপত্যকায় পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, পলি ও গাছপালা একসঙ্গে নিচের দিকে ধেয়ে আসে।

নিউজিল্যান্ডের জিএনএস সায়েন্সের প্রধান বিজ্ঞানী সাইমন কক্স বলেন, হিমবাহ ধসের ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত গিরিখাতের মধ্য দিয়ে তীব্র গতিতে নেমে আসে। পথে থাকা প্রায় সবকিছুই এই স্রোতে ভেসে যায়।

প্রথমে এই স্রোত একটি সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত দ্রুত পুরো এলাকা গ্রাস করছে। এ সময় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেন।

এরপর সেই ধ্বংসাত্মক স্রোত ভাটির দিকে নেপালে প্রবেশ করে। এতে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে যায়।

ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসের কম্পন

ঘটনাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর ফলে সৃষ্ট কম্পন প্রথমে ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানায়, এটি প্রকৃত ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহ ধস ও ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট একটি ভূকম্পনীয় ঘটনা।

এই কম্পন ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পনীয় সংকেত হিসেবে রেকর্ড হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে।

সাইমন কক্সের মতে, ঠিক কত পরিমাণ হিমবাহ ধসে পড়েছে, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে এর পরিমাণ ৫ লাখ ঘনমিটার থেকে কয়েক কোটি ঘনমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে খোঁজা হচ্ছে ধসের চিহ্ন

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধারকাজ ও সরেজমিন তদন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা ঘটনার আগে ও পরে তোলা স্যাটেলাইট ছবি এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের হিমবাহবিদ লরেন ভার্গো বলেন, ঘটনার আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবি তুলনা করে পাহাড়ের কোন অংশ ধসে গেছে এবং এতে ভূপ্রকৃতিতে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102