বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৫ দফা দাবিতে আগামীকাল থেকে সারাদেশে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের ডাক ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব হারাচ্ছেন মিরাজ, নতুন অধিনায়ক কে? এআই দিয়ে আগাম শনাক্ত হবে নিত্যপণ্যের সংকট: বাণিজ্যমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মন্ত্রীর পরিদর্শন : ক্লিনিক সিলগালার পর, এবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরদিন মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালা বাগেরহাটে খাল দখলমুক্তের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের অবস্থান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবিতে বাগেরহাটে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু ​পিলজংগ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী সুইটি বেগম ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রামের রাজনীতি: রাখালগাছির তরুণ নেতা শেখ মিজানুর মাহামুদ (রাজন)

লোন দেওয়ার নামে চেক হাতিয়ে মিথ্যা মামলা করাই পেশা ব্যাংকের দালাল খলিলের

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

প্রথমে গ্রামের অসহায় পরিবারকে টার্গেট করে ব্যাংক থেকে কৃষি লোন পাইয়ে দেওয়ার রফাদফা। পরে অ্যাকাউন্ট করিয়ে চেক হাতিয়ে নিয়ে আদালতে মামলা করে মোটা অংকের অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ফুলপুরের খলিল রহমান মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। খলিলের এমন প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

জেলার ফুলপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা নেওয়াজ শরীফ ও নুরেছা বেগম। তারা সম্পর্কে মা ছেলে। নুরেছার স্বামী মারা যাওয়ার পর চেয়েচিন্তে চলতো সংসার। নেওয়াজ শরীফের চাচা জিয়াউর রহমানের তৈরি করে দেওয়া ঘরেই তাদের বসবাস।

২০২২ সালের ৩১ আগস্ট সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে পার্শ্ববর্তী কুকাইল গ্রামের খলিলুর রহমান মণ্ডলের মাধ্যমে ফুলপুর কৃষি ব্যাংক থেকে মা-ছেলে যৌথ নামে দুই লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। এরমধ্যে ৫০ হাজার টাকা ঘোষ দিতে হয় খলিলকে। সেই সাথে খলিল ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলে তিনটি ব্ল্যাংক চেক নিজের কাছেই রেখে দেন।

জমিজমা নিয়ে জিয়াউর রহমানের সাথে খলিলের বিরোধ সৃষ্টি হলে, খলিল ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ময়মনসিংহ আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন মা-ছেলের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি চন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস নেওয়াজ শরীফ ও নুরেছা বেগমের। দুজনেই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মা-ছেলে। ভয়-আতংকে দিন কাটছে তাদের।

ভুক্তভোগী নেওয়াজ শরীফ বলেন, পূর্ব পরিচিত খলিল হঠাৎ করে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে দিবে বলে বাড়িতে এসে আলোচনা করে। কিন্তু দুই লাখ টাকা কৃষি লোন তুলে দিতে সে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তার কথামতো জমির কাগজপত্র এবং তিনটি চেক দিয়ে দুই লাখ টাকা লোন তুলে ৫০ হাজার তাকে দিয়ে দেই। আমার চাচার সাথে খলিলের বিরোধ হলে আমাদের নামে খলিল ৭ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করে। তার ভুয়া মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১ মার্চ খলিলের বাড়িতে বসে ৭ লাখ টাকা ধার নিয়েছি। কিন্তু সেই তারিখে আমি কর্মস্থল ঢাকায় ছিলাম। তার যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে।

ভুক্তভোগী নুরেছা বেগম বলেন, খলিল বলছে জমির কাগজ এবং চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে কৃষি লোন তুলতে হয়। আমরা সেই বিশ্বাসে সব কাগজপত্র খলিলের সামনে ব্যাংকের মধ্যে একজনের কাছে জমা দেই। কিন্তু সেই চেক নিয়ে খলিল মামলা করে আমাদের কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করছে। আমাদের তো এত টাকা দেওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই।

নেওয়াজ শরীফ এবং নুরেছা বেগমের মতো খলিলের রোষানলে পড়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন একই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুল খালেক ফকির।

২০২৪ সালে আব্দুল খালেক ফকির ফুলপুর কৃষি ব্যাংকের শাখায় ৭ লাখ টাকার সিসি লোন রিকোভারি করেন। তার সাথেও খলিল মণ্ডলের জমিজমা নিয়ে বিরোধ হলে গত ৯ মার্চ ২৭ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করা হয়।

ভুক্তভোগী ষাটোর্ধ্ব আব্দুল খালেক ফকির বলেন, চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে লোন নিয়েছি, কিন্তু সেই চেক দিয়ে খলিল আমার নামে মামলা করেছে। আমি মনে করি, আমার এ ঘটনায় ব্যাংকের লোকজনও জড়িত। না হলে খলিল কীভাবে চেক পেল। আমাদের এলাকায় খলিল কৃষি ব্যাংকের দালাল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় শত শত মানুষ লোন নিয়েছে খলিলের মাধ্যমে। এতে খলিল যেমন সুবিধা নিচ্ছে তেমনি ব্যাংকের লোকজনও নিচ্ছে। চেকের মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা নিজেরাও জানেন না। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102