রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ৮.৭ বিলিয়ন ডলার

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করেছে সরকার।

উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি উদ্ধার তৎপরতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেক বাসিন্দা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন। এদিকে মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

সরকার জানিয়েছে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া লা গুয়াইরা এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। তবে এই অনুমতি কারা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় সরকারি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় কম। যদিও সরকার দাবি করেছে, সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি জীবিত মানুষকে উদ্ধার করা একেকটি অলৌকিক সাফল্যের মতো। তিনি দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র গোপন না করারও আশ্বাস দেন।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে।

শনিবার আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হলেও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখনো কয়েক হাজার মানুষের কোনো খোঁজ মেলেনি। অনেকেই মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই দুর্যোগের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এক বিবৃতিতে বলেন, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি ভেনেজুয়েলার দুর্গত মানুষের জন্য দ্রুত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102