রোববার (২১ জুন) চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করে। জবাবে ৯ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা। এ নিয়ে ১১ বার টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় উড়ন্ত শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের করা প্রথম ওভার থেকেই আসে ১৭ রান। পরের ওভারে নাসুম আহমেদ খরচ করেন আরও ৯ রান। প্রথম ৫ ওভারে ৫০ রান তোলার পর ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় অজিরা। নাসুম আহমেদের শর্ট বল ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিড উইকেটে শামীম পাটোয়ারীর হাতে ক্যাচ দেন জস ইংলিশ। তার আগে খেলেন ১৬ বলে ১৭ রানের ইনিংস। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া, যেটা মূল লক্ষ্যের প্রায় অর্ধেক।
তবে মিচেল মার্শ ঠিকই তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন। ৭ম ওভারে আসা নাহিদ রানার প্রথম দুই বলেই হাঁকান ছক্কা ও চার। এক বল পর টানা দুই চার মারেন কুপার কোনোলি। ওই ওভারে ৩ চার ও ২ ছক্কায় নাহিদ রানা দেন ২০ রান। পরের ওভারে ২৫তম বলে ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি পূর্ণ করেন মার্শ।
জয় থেকে ২২ রান দূরে থাকতে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শরীফুলের বলে সুইপার কাভারে শামীমের হাতে ক্যাচ দেন মার্শ। এর আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ রান। ২৮ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান অজি অধিনায়ক। ১০ রানের ব্যবধানে রিশাদের শিকার হয়ে ফেরেন কোনোলি। এরপর উইকেটে এসে ৩ বলে ২ ছক্কা হাঁকিয়ে খেলা শেষ করেন টিম ডেভিড।
এর আগে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ পাওয়ার প্লের মধ্যেই হারায় ৩ উইকেট, স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ২২ রান।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জনসনের করা তৃতীয় বলটা সোজা খেলেছিলেন সাইফ। বলটা বোলারের হাতে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। তানজিদ হাসান তামিম উল্টো দিকে তখন ক্রিজ থেকে সামান্য বেরিয়ে এসেছেন। এতে রান আউট হন তিনি। ওই ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়েছিলেন সাইফ। কিন্তু দুর্বল শটটা ক্যাচ হিসেবে যায় মিচেল মার্শের হাতে। এরপর ইমন আর হৃদয় তো সিঙ্গেলই নিতে পারছিলেন না। শুরু থেকেই ভুগতে থাকা ইমন শেষ পর্যন্ত আউট হন পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এর আগে ১ রান করতে তিনি খেলেছেন ১৩ বল। এরপর ষষ্ঠ ওভারে নুরুল হাসান সোহান ও হৃদয় একটি করে বাউন্ডারি মারেন। এতে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের পাওয়ার প্লেতে নিজেদের রেকর্ড ভাঙা থেকে রক্ষায় পায় বাংলাদেশ।
অষ্টম ওভারে ৩৪ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন ৮ বলে ৬ রান করা সোহান। শামীম হোসেন পাটোয়ারী আরও একবার ব্যর্থ হয়েছেন। স্লোয়ার ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। এরপর রিশাদ হোসেন ও হৃদয় প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও স্থায়ী হয়নি। নিখিল চৌধুরীর বলে তার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রিশাদ। এর আগে করেন ২০ বলে ২৬ রান। ৬২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, তখনো বাকি ৮ ওভার। এক ওভার পর উইকেট ছুড়ে দেন নাসুম আহমেদও!
তবে একপ্রান্তে ব্যাটারদের যাওয়া আসার মিছিল চললেও অন্যপ্রান্ত আগলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়। ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিল দেখেছেন তিনি। এর মধ্যে তার ব্যাটেই দলের আন ১০০ পূর্ণ হয়। ৪১তম বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়। ৬১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটা হৃদয়ের ৭ম ফিফটি, আর চট্টগ্রামে চতুর্থ। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৭৩। শেষ ৫ ওভারে যোগ হয় আরও ৩২ রান। শেষ ওভারে আসে মাত্র ২ রান।







