বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদরদপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, ঘোষিত আয়ের উৎসের চেয়ে প্রায় ১১০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি।
২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন । এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয় । এরই প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরে বেনজীর আহমেদ বিদেশে অবস্থান করছিলেন। গত বছরের ৪ মে তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন । এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায়ও সম্পদ খোঁজার প্রক্রিয়া চলছিল।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক। উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড হয়েছে । আগামী ২৩ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ।