বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিল্লিতে মুসলিম তরুণীকে হত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ স্বামী অঙ্কিতের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত জবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মানববন্ধন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অভিযান, ৮৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক এক সপ্তাহ শান্ত থাকবে ইরান-ইসরাইল: ট্রাম্প বাংলাদেশ হাইকমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে নতুন সমন্বয়ের বার্তা জার্মানিতে বিএনপির উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন নির্বাচনের পর গাড়ি-বাড়ি সব লাগে জামায়াতের : রাশেদ খান বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন কাতালোনিয়ার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত উচ্চবর্ণের কিশোরীর সঙ্গে প্রেম, উত্তরাখণ্ডে দলিত তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করা কি জায়েজ?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্ককে পবিত্র ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা হলো, বিয়ের আগে কোনো নারী ও পুরুষ এমন সম্পর্কে জড়াবে না, যা তাদেরকে হারাম কাজের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৩২)

প্রশ্ন হলো, যদি উদ্দেশ্য বিয়ে হয়, তাহলে কি প্রেম করা জায়েজ হবে?

এর উত্তর হলো- না। শুধু বিয়ের নিয়ত থাকলেই বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক বৈধ হয়ে যায় না। ইসলামে বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন; কিন্তু সেই বন্ধনে পৌঁছানোর পথও শরিয়তসম্মত হতে হবে। কোনো বেগানা নারী-পুরুষের মধ্যে আবেগপূর্ণ সম্পর্ক, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, নির্জনে সাক্ষাৎ, প্রেমালাপ বা এমন যোগাযোগ যা পারস্পরিক আকর্ষণ বাড়ায়—এসব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘চোখের জিনা হলো (অবৈধভাবে) তাকানো এবং জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা।’ (সহিহ বুখারি: ৬২৪৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘চোখের জিনা হলো তাকানো, কানের জিনা হলো শোনা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো (পাপের দিকে) অগ্রসর হওয়া এবং অন্তরের জিনা হলো কামনা-বাসনা পোষণ করা।’ (মেশকাতুল মাসাবিহ: ৮৬)

তাই কোনো সম্পর্ক শারীরিক পর্যায়ে না পৌঁছালেও, যদি তা বিয়েবহির্ভূত প্রেম ও আবেগপূর্ণ যোগাযোগের রূপ নেয়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের আগে একজন ছেলে বা মেয়ে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী সম্পর্কে জানবে না। ইসলামে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে পাত্র-পাত্রীর একে অপরকে দেখা, খোঁজখবর নেওয়া এবং পরিবার-অভিভাবকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা বা অবাধ মেলামেশার অনুমতি নেই।

মানুষ হিসেবে একে অপরকে ভালোবাসা আল্লাহর বড় নেয়ামত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরের শত্রু ছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে গেলে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১০৩)

ইসলামে সবচেয়ে সুন্দর ও পবিত্র ভালোবাসা হলো স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা। বিয়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ক বৈধতা লাভ করে এবং তা ইবাদতের মর্যাদা পায়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি বিয়ে করে, তখন সে তার দীনের অর্ধেক পূর্ণ করে। অতএব, অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবারানি: ৯৭২; মুসতাদরাক হাকিম: ২৭২৮)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (রিয়াদুস সালিহিন: ১/১৯৭)

সুতরাং উদ্দেশ্য যতই ভালো হোক না কেন, বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। যে ব্যক্তি কাউকে পছন্দ করে, তার উচিত শরিয়তসম্মত উপায়ে বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া, আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিজের দৃষ্টি ও চরিত্রের হেফাজত করা। কারণ প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে পবিত্র জীবনযাপন করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হারাম সম্পর্ক থেকে হেফাজত করুন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, দয়া ও বরকত দান করুন। আমিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102