শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

ঢাকার কাছে একদিনের ভ্রমণ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

জিন্দা পার্ক, রূপগঞ্জ

ঢাকার কোলাহল পেছনে ফেলে যখন রূপগঞ্জের পথে গাড়ি এগোয়, তখন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে চারপাশের দৃশ্য। কংক্রিটের দেয়াল ছেড়ে চোখে পড়ে সবুজ গাছের সারি, শান্ত জলাশয় আর নিস্তব্ধতার এক অন্যরকম আবহ। সেই আবহের নাম জিন্দা পার্ক। নারায়ণগঞ্জের এই পার্ক যেন প্রকৃতির কোলে সাজানো এক শান্ত আশ্রয়। বিশাল এলাকাজুড়ে অসংখ্য গাছপালা, ছায়াঘেরা পথ, কাঠের ছোট ছোট সেতু আর পুকুরপাড়ের নরম বাতাস মুহূর্তেই মনকে শান্ত করে দেয়। এখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে সময় যেন একটু ধীর হয়ে গেছে। পার্কের অন্যতম আকর্ষণ এর দৃষ্টিনন্দন পাঠাগার। কাঠ ও মাটির আদলে গড়া স্থাপনাগুলো গ্রামবাংলার স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে। পরিবার নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটাতে কিংবা ঈদের দুপুরে দেশীয় খাবারের স্বাদ নিতে জিন্দা পার্ক হতে পারে অনন্য গন্তব্য।

সাফারি পার্ক, গাজীপুর

শিশুদের চোখে বিস্ময় দেখতে চাইলে কিংবা নিজের ভেতরের অভিযাত্রী মনটাকে জাগিয়ে তুলতে চাইলে চলে যেতে পারেন গাজীপুর সাফারি পার্কে। এখানে প্রবেশ করলেই মনে হবে যেন শহর থেকে হঠাৎ আফ্রিকার কোনো বন্য জঙ্গলে এসে পড়েছেন।

বিশাল উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জিরাফ কিংবা হরিণদের স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। দর্শনার্থীরা সুরক্ষিত গাড়িতে বসে প্রাণীদের কাছ থেকে দেখতে পারেন খুব কাছাকাছি দূরত্বে। সেই মুহূর্তে শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের বিস্ময় একসঙ্গে মিশে যায়।

পার্কের ভেতরে রয়েছে পাখিশালা, প্রজাপতি পার্ক ও ছোটদের খেলাধুলার আলাদা ব্যবস্থা। প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর সঙ্গে কাটানো এমন একটি দিন ঈদের ছুটিকে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় করে তুলবে।

পানাম সিটি, সোনারগাঁ

যারা ভ্রমণে ইতিহাসের গন্ধ খুঁজে পান, তাদের জন্য সোনারগাঁও এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ঢাকার কাছেই অবস্থিত এই প্রাচীন জনপদ একসময় বাংলার বাণিজ্য ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। পানাম সিটির সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হবে আপনি যেন কয়েক শতাব্দী আগের কোনো গল্পের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। সারি সারি লাল ইটের পুরোনো দালান, জানালার কারুকাজ আর নিস্তব্ধ পরিবেশ অতীতকে জীবন্ত করে তোলে।

কাছেই রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য, মাটির শিল্প, নকশিকাঁথা কিংবা কাঠের কাজ সব মিলিয়ে এটি যেন বাংলার সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। ইতিহাসপ্রেমী কিংবা ছবি তুলতে ভালোবাসেনÑ সবার কাছেই জায়গাটি হয়ে উঠতে পারে প্রিয়।

মৈনট ঘাট, নবাবগঞ্জ

ঢাকার কাছে বসেই সমুদ্রের বিস্তৃতির অনুভূতি পেতে চাইলে যেতে পারেন দোহারের মৈনট ঘাটে। পদ্মার বিশাল জলরাশি আর দীর্ঘ বালুচরের কারণে জায়গাটি পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে।

বিকেলের সূর্য যখন ধীরে ধীরে নদীর জলে লাল আভা ছড়িয়ে দেয়, তখন মৈনটের সৌন্দর্য হয়ে ওঠে আরও মায়াবী। নদীর তীরে বসে বাতাস উপভোগ করা কিংবা স্পিডবোটে নদীর বুকে ছুটে চলা সবই এনে দেয় এক অন্যরকম আনন্দ।

এখানে গেলে তাজা ইলিশ ভাজা আর নদীপাড়ের খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। নদীর পাড়ে বসে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর ইলিশের স্বাদ ঈদের ভ্রমণকে আরও পূর্ণতা দেবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার

ঢাকার খুব কাছেই এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে প্রকৃতি, শিক্ষা আর সৌন্দর্য একসঙ্গে মিশে গেছে। সেটি হলো সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

লাল মাটির পথ, বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ আর ছোট-বড় অসংখ্য লেক ক্যাম্পাসটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। বিকেলের নরম আলোয় ক্যাম্পাসের পথ ধরে হাঁটলে মনে হবে যেন কোনো উপন্যাসের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

শীতকালে এখানে অতিথি পাখির আনাগোনা বাড়ে, আর বছরের অন্য সময়ও জায়গাটি থাকে প্রাণবন্ত। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবার নিয়ে হাঁটাহাঁটি কিংবা ক্যাম্পাসের বিখ্যাত ভর্তা-ভাত আর চটপটির স্বাদ  সব মিলিয়ে এটি হতে পারে ঈদের ছুটির একটি শান্ত ও সুন্দর গন্তব্য।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102