মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে পানি নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪২ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সুদান সীমান্তের কাছে পূর্বাঞ্চলীয় ওয়াদি ফিরা প্রদেশে ইগোটে গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
সোমবার দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত ইগোটে গ্রাম পরিদর্শন করেন। তিনি নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য তাদের একটি প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাহামাত ইগোটে বলেন, পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় সহিংসতা একটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং গ্রামে সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চাদ মূলত মরুভূমিপ্রধান একটি দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম। দেশটিতে পানি ও চারণভূমি নিয়ে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী বা পরিবারের মধ্যে এ ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটে থাকে। গত বছর দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন এবং কয়েকশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।
মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে—বিশেষ করে চাদে—খরার প্রকোপ বেড়েছে এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পানির উৎসগুলো শুকিয়ে দিচ্ছে। দেশটির গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানির কূপ, পাম্প বা পাইপলাইনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক গভীরে থাকায় সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ সুদানের যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে চাদ। সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা লক্ষাধিক সুদানি শরণার্থীকে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।