হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পেতে রাখা জলমাইন অপসারণে কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের আর্মড সার্ভিস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সেই বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করতে প্রায় ৬ মাস লাগবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১ ডজনেরও বেশি মাইন পেতেছে আইআরজিসি।
তবে প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন পাতা হয়েছিল, তার রেকর্ড ঠিকমতো রাখেনি রেভল্যুনারি গার্ড কোর। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে হরমুজ থেকে মাইনগুলো শনাক্ত ও অপসারণ করা।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সেই ঘোষণা দেওয়ার প্রায় দু’ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, হরমুজ থেকে মাইন অপসারনে কাজ শুরু হয়েছে।