নারী রাজনীতিবিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদব। তিনি বলেছেন, নারীদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় পুরুষদের ঘরে। এমনকি পুরুষ রাজনীতিকের ঘরে না গেলে ৯০ শতাংশ নারী রাজনীতিতে আসতেই পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বেশিরভাগ নারীকে রাজনীতিতে আসতে গেলে কোনও না কোনও পুরুষ রাজনীতিকের ঘরে সময় কাটাতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদব। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাপ্পু যাদব অধিকাংশ পুরুষ রাজনীতিককে ‘শকুন’ বলেও আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, ‘পারিবারিক সহিংসতা কে করছে? নারীদের দিকে কুদৃষ্টি দেয় কে? আমেরিকা থেকে ভারত— রাজনীতিকরাই এসব করছে। কোনও রাজনীতিকের ঘরে না গেলে ৯০ শতাংশ নারী রাজনীতিতে আসতেই পারে না। প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন রাজনীতিকদের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসছে। নারীদের শোষণ এখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।’
পূর্ণিয়ার সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদবের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। তিনি বলেন, এই ‘অশালীন মন্তব্য’ বিরোধী শিবিরের মানসিকতার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ‘আবারও কংগ্রেস ও তার মিত্ররা প্রমাণ করেছে তারা নারীবিরোধী। শুধু নারী সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ভোটই দেয়নি, বরং রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ও কংগ্রেস সমর্থিত পাপ্পু যাদব নারীদের নিয়ে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে থাকা ৯০ শতাংশ নারী কোনও পুরুষের ঘরে না গেলে রাজনীতিতে থাকতে পারে না। এটি অত্যন্ত জঘন্য মন্তব্য।’
পুনাওয়ালা প্রশ্ন তোলেন, নারীদের পক্ষে সোচ্চার থাকা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেন এ বিষয়ে নীরব। তিনি ‘লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ’ স্লোগানের কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী চারু প্রজ্ঞা বলেন, পাপ্পু যাদবের বক্তব্য তার মানসিকতা ও নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে এমন একজন ব্যক্তি একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাকে সংসদ থেকে বরখাস্ত করা উচিত এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকেও নিষিদ্ধ করা উচিত। রাহুল গান্ধী ও আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদব এ বিষয়ে কী বলবেন? পাপ্পু যাদব তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন।’
এদিকে বিতর্কের পর বিহার রাজ্য মহিলা কমিশনও পাপ্পু যাদবকে নোটিশ দিয়েছে। এরপর মঙ্গলবার পাপ্পু যাদব দাবি করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেক নারী শোষণের শিকার হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিহারে নারীদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের ঘটনায় যেখানে রাজ্য মহিলা কমিশন ‘নিষ্ক্রিয়’ ছিল, সেখানে নারীদের পক্ষে কথা বলায় তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।