সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম সঞ্জয় শর্মা। তিনি একটি মৃত পশুকে সমাধিস্থ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সাথে যুক্ত বলে পরিচিত একটি গোষ্ঠী তাঁকে বাধা দেয় এবং আক্রমণ করে। হামলাকারীদের সন্দেহ ছিল যে তিনি অবৈধ গবাদি পশু পাচারের সঙ্গে জড়িত।তবে ঘটনার মোড় ঘোরে যখন জানা যায় যে, আক্রান্ত ব্যক্তি মুসলিম নন, বরং একজন হিন্দু। হামলাকারীরা তাঁকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভুল বুঝে আক্রমণ করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “সবার সামনে তাকে পেটানো হচ্ছিল। পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও আক্রমণ থামেনি।”অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি), একদল লোক ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে মারধর করছে এবং আশেপাশে আরও অনেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ সঞ্জয় শর্মাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে নাকি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ঘটনা গুজব এবং সন্দেহের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। এক বাসিন্দা বলেন, “মানুষ তথ্য যাচাই না করেই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এতে যে কেউ বিপদে পড়তে পারে।” অন্য এক বাসিন্দা যোগ করেন, “কেউ পশু পরিবহন করলে যথাযথ যাচাই হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একেবারেই ঠিক নয়।”
পুলিশ এখনও এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে কর্মকর্তারা ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান পরীক্ষা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়েছে কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে আক্রমণ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। দিল্লির একজন আইনজীবী বলেন, “যদি কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সন্দেহ থাকেও, তবে সঠিক পদক্ষেপ হলো পুলিশকে জানানো। সহিংসতাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।”
দ্বারকার এই ঘটনাটি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং পুলিশের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, জননিরাপত্তা এবং মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অত্যন্ত জরুরি।