ইরান তার আকাশসীমা ও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর আংশিকভাবে পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমা ব্যবহার করে ট্রানজিট করতে পারবে। তবে এসব খুলে দিরেও একই দিন দেশটি নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা জানায়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো এখন নির্ধারিত রুটে পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে। প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হবে।
যাত্রীসেবা পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দেশজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে পর্যায়ক্রমে ফ্লাইট চালু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।
স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং ইসলামাবাদে আরেক দফা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে আকাশপথ আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। সেন্টকম-এর তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে ২১টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে স্থায়ী চুক্তি না হলে পুনরায় সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবারও শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।