সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে ইতালি যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন আপন দুইভাই। তাদের একজন কাওছার হোসেন ইতালিতে বসবাস করেন। অপরজন দেলোওয়ার হোসেন দেশে অবস্থান করে এই টাকা গ্রহণ করেছেন।
তারা উপজেলার জলঢুপ পাড়িয়াবহর এলাকার সফাত আলীর ছেলে। এদিকে টাকা ফেরত চেয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভুক্তভোগীরা ‘আদম ব্যবসায়ীদের’ বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মধ্যরাতে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইতালিতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২জন লোককে কৃষি ভিসায় ইতালি নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ইতালি যেতে রাজি হন স্থানীয়রা।
এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইতালি যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইতালি থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা।
তবে ভুক্তভোগীরা জড়ো হয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে ওই আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তারা কোনো সদুত্তর না পেয়ে ক্রমেই ক্ষুব্দ হতে থাকেন। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মধ্যরাতে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের শান্ত করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী সোমবার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ে আদম ব্যবসায়ীদের পিতা এবং ভুক্তভোগীরা সমঝোতা বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকে পাওনা টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দেলোওয়ার-কাওছারের বাবা সফাত আলী জানান, ইতালি দূতাবাস বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেওয়ায় আমার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে। তারা ইতালির নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা অগ্রীম প্রদান করায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, পাওনা টাকার জন্য ক্ষুব্দ লোকদের শান্ত করে সমঝোতা বৈঠকের জন্য রাজি করানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।