টানা ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার কথা। তবে আলোচনার আগেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তেহরান জানিয়েছে, লেবানন পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, তারা লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। লেবাননে মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
পোস্টে তিনি বলেন, তাদের সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু হবে না। অর্থাৎ লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত এই আলোচনা সফল নাও হতে পারে।
গালিবাফ আরও বলেন, ওয়াশিংটন যদি বাস্তবসম্মত চুক্তির প্রস্তাব দেয় এবং ইরানের অধিকার স্বীকার করে, তবেই আমরা সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, লেবাননে সামরিক অভিযান ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যই বর্তমান আলোচনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
গত ৭ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে সংঘাত থামেনি। ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় লেবাননের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সতর্ক করে বলেন, ‘লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আমরা আমাদের লেবানিজ ভাইদের রক্ষায় আবারও কঠোর অবস্থান নেব।’
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর ইসরায়েল কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। জানা গেছে, ইসরায়েলি ও লেবানিজ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আলোচনায় বসতে পারেন। তবে এ আলোচনার এজেন্ডা নিয়ে এখনো দ্বিধা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-লেবানন ইস্যুতে সমঝোতা না হলে ইরান-আমেরিকা আলোচনা আদৌ এগোবে কি না। যদি এই জট না কাটে, তবে ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির, এবং লেবানন ইস্যুই হয়ে উঠেছে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমাধানের প্রধান বাধা।
উল্লেখ্য, বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর এটাই প্রথম সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি বাতিল করলে সম্পর্ক আবারও অবনতির দিকে যায়।