বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

ইরান-আমেরিকার আলোচনা শুরু

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের পর একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে এই বিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইসলামাবাদে পাঠানো তাসনিমের সংবাদদাতার মতে, নিবিড় আলোচনা, আলোচনায় অগ্রগতি এবং বৈরুত থেকে দক্ষিণ লেবাননে জায়নবাদী সরকারের হামলা সীমিতকরণ—যা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি অগ্রবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত—এবং ইরানের সম্পদ ছেড়ে দিতে মার্কিন পক্ষের সম্মতি ও এ বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কারণে এসব বিষয় চূড়ান্ত করার জন্য ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানের দাবি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি এবং এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ইসরায়েলি সরকারকে বাধ্য করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে।

অন্য পক্ষের প্রতি সংশয় প্রকাশ করে এবং পূর্ববর্তী আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই দফার আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।

এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে আমেরিকান ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে কার্যকরভাবে পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করে। আগ্রাসনকারীদের দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশার বিপরীতে, ইরানের ৪০ দিনব্যাপী শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যা ইসলামাবাদে আলোচনার সুযোগ করে দেয়।

আলোচনার জন্য ইরান একটি দশ দফা পরিকল্পনা পেশ করে, যার মধ্যে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভের মতো দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থার মনোভাব বজায় রেখেছে এবং দাবি করছে যে এই আলোচনার উদ্দেশ্য সংঘাতের সমাধান নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রকে কূটনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে আসা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102