ভারতের তেলেঙ্গানার সাতবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দলিত নারী অধ্যাপক এবং এক দলিত ছাত্রকে ‘আর্বান নকশাল’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতিহিংসামূলক প্রচার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান তথা আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুরেপল্লী সুজাতা এবং অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র কারিকে মহেশের বিরুদ্ধে মাওবাদী যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে একদল শিক্ষার্থী। তারা স্থানীয় জেলা কালেক্টর ও সাংসদের কাছে এই মর্মে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। একইসাথে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘তেলেঙ্গানা শিক্ষা বাঁচাও কমিটি’। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ কে. চক্রবর্তী রাও, জি. হরগোপাল এবং কে. লক্ষ্মীনারায়ণ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একজন দলিত নারী অধ্যাপককে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি অত্যন্ত প্রতিহিংসামূলক আচরণ।”
তাঁদের মতে, এই ধরণের ঘটনা কেবল ব্যক্তিবিশেষকে আক্রমণ নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে।
কমিটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এত বড় বিতর্কের মাঝেও ভিসি নীরব রয়েছেন।
কমিটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা ভিসির দায়িত্ব, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে হবে, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
কমিটির সদস্যরা সতর্ক করে বলেছেন যে, সাতবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গ্রামীণ, দলিত বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের। এই ধরণের সাম্প্রদায়িক ও প্রতিহিংসামূলক পরিবেশ তৈরি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে। তাঁরা শিক্ষা ব্যবস্থার ‘গৈরিকীকরণ’, ‘বাণিজ্যিকীকরণ’ এবং ‘কেন্দ্রীভূতকরণ’-এর বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন।