দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের একটি আদালত আবদুল রশিদ ওয়ানিকে মৃত ঘোষণা করেছে। ১৯৯৭ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকাকালীন নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। আদালত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে অতিদ্রুত ওয়ানির পরিবারকে মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদান করা হয়।
সাব-জজ মাসারাত জাবিন এই মামলার রায় প্রদানকালে জানান, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর আইনি প্রক্রিয়ায় আবদুল রশিদকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পুলিশি অনুসন্ধান সত্ত্বেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে তার নিকটাত্মীয় বা পরিচিত কেউ তার অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই শোনেননি। তাই প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে তাকে মৃত হিসেবে গণ্য করার আইনি অনুমান প্রযোজ্য।”
ওয়ানির স্ত্রী ও সন্তানদের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই ঐতিহাসিক নির্দেশ দেয়।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, শ্রীনগরের বেমিনার বাসিন্দা আবদুল রশিদ ওয়ানিকে ১৯৯৭ সালের ৭ জুলাই সেনাবাহিনীর ‘২/৮ গোর্খা রাইফেলস’ আটক করেছিল। রাওয়ালপোরা এলাকা থেকে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ওয়ানি আর বাড়ি ফেরেননি।
এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে পরিচালিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আবদুল রশিদকে হেফাজতে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত ছিলেন। হত্যার পর তার মরদেহ গুম করে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশি তদন্তেও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় যে, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং তিনি সম্ভবত হেফাজতেই মারা গেছেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আবদুল রশিদের পরিবার শুধু বিচার নয়, বরং তার মৃত্যুর সরকারি স্বীকৃতির জন্যও লড়াই চালিয়ে গেছে। এই রায়ের ফলে পরিবারটি এখন শ্রীনগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে আনুষ্ঠানিক ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবে, যা তাদের পেনশন, সম্পত্তি এবং অন্যান্য আইনি উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সহায়তা করবে।