মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশি নাগরিককে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ দিয়ে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ফিরে আসা তিনজন হলেন—বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. বাপ্পি (২৮), একই এলাকার ওসমান গনি রাব্বি (১৮) এবং টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার হেরেন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. জনি মিয়া (২২)।
কক্সবাজার (৩৪ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিককে সমন্বয়ের মাধ্যমে আজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সব সময় সচেষ্ট।
বিজিবি জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তুমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে একজনকে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি বালুখালী নদী এলাকায় মাছ ধরতে গেলে আরও দুজনকে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি কর্তৃপক্ষ আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের মুক্তির বিষয়ে সমন্বয় শুরু করে।
বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রচেষ্টার পর শুক্রবার দুপুরে ঘুমধুম সীমান্তের ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ দিয়ে তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফিরে আসা মো. বাপ্পি বলেন, ‘আমরা খুবই আতঙ্কিত ছিলাম। বিজিবির প্রচেষ্টায় নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরেছি। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলের রামু সেক্টরের অধীন ইউনিটগুলো সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।