মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

আজ মাঠে নামছেন ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনি অপরাধ দ্রুত বিচারের জন্য সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।

অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পূর্বের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন তারা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আইনি এখতিয়ার প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ (পি.ও. নং, ১৫৫ অব ১৯৭২)-এর অনুচ্ছেদ ৮৯ এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা মূলত নির্বাচনি অপরাধসমূহ যেমন- ভোটদানে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন তপশিলি অপরাধের ক্ষেত্রে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’-এর ১৯০(১) ধারা অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বিচার (সামারি ট্রায়াল) কার্য পরিচালনা করবেন।

 

প্রজ্ঞাপনে একগুচ্ছ নির্দেশনা

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হলো-

ক) নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় যোগদান করতে হবে। যোগদান পত্রের একটি কপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রেরণ করতে হবে।

 

খ) দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনি অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেওয়া হলে তা ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

 

বিচারের ফলাফল বা নিষ্পত্তির বিবরণী (ডিসপোজাল স্টেটমেন্ট) পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় নির্ধারিত ছকে পাঠাতে হবে।

 

গ) বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেট একজন করে বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার অথবা অফিস সহকারীকে সহায়ক স্টাফ হিসেবে সঙ্গে নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

ঘ) ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা স্পিডবোটসহ প্রয়োজনীয় যানবাহনের সংস্থান করবেন।

 

ঙ) বিচারকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার কিংবা স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তপশিল অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার জন্য এই ৬৫৫ জন বিচারককে সুনির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে বান্দরবান মোট ৩০০ আসন পর্যন্ত প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102