আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে ৩ দিনের সফর শুরু করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠকে দক্ষিণ ককেশাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতে আর্মেনিয়ার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছেছে ওয়াশিংটন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যৌথভাবে এই চুক্তিতে সই করেন।
এই চুক্তি সম্পর্কে ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই সমঝোতার ফলে প্রাথমিকভাবে আর্মেনিয়ায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভ্যান্স আরও বলেছেন, আমরা কেবল আর্মেনিয়ার জন্য শান্তি আনছি না। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও আর্মেনিয়ার জন্য একসঙ্গে টেকসই সমৃদ্ধির পথ তৈরি করছি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আর্মেনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অংশীদারিত্বে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রস্পেরিটি (টিআরআইপিপি) প্রকল্পও এগিয়ে নিতে চায়। প্রস্তাবিত ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডর দক্ষিণ আর্মেনিয়া হয়ে আজারবাইজানের নাখশিভান অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে, যা তুরস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
এতে রেলপথ, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। রাশিয়া ও ইরানকে এড়িয়ে এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে সংযোগ জোরদার করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য, যা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, শান্তি চুক্তির পরপরই স্বাক্ষরিত এই সমঝোতাকে রাশিয়ার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটি পরিচিত ’১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহের আইনি অনুমোদন দিতে পারে।