জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন ক্লিনটন দম্পতি। রিপাবলিকানরা যাতে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্যই জনসমক্ষে ওই সাক্ষ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং তার অপরাধের তথ্য কীভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত করছে কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি। এই কমিটির সামনেই ক্লিনটন দম্পতিকে রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি আপত্তি জানালেও রিপাবলিকানরা কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগে ভোট নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন।
তবে শুক্রবার বিল ক্লিনটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, রুদ্ধদ্বার কক্ষে সাক্ষ্য নিলে তা হবে প্রহসনের বিচারের মতো। তিনি বলেন, ‘আসুন খেলা বন্ধ করি এবং সঠিক উপায়ে জনসমক্ষে শুনানির মাধ্যমে এটি শেষ করি।’
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি এই লড়াই-ই চান, তবে তা জনসমক্ষেই হোক।’ তিনি আরও বলেন, তারা যা জানেন, তা ইতোমধ্যে কমিটিকে জানানো হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী ছিলেন। কিন্তু তাকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি।
গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন মামলার ৩০ লাখের বেশি নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন। প্রকাশিত নথিতে বিল ক্লিনটনের নাম বারবার এলেও কোনো অপরাধমূলক কাজে তার বা হিলারির জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।
বিল ক্লিনটন আগে স্বীকার করেছিলেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজে তিনি এপস্টেইনের উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে তিনি কখনোই এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার বলার মতো কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি কখনো তার উড়োজাহাজে চড়েননি বা দ্বীপে যাননি।