শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

‘বিএনপির পরিকল্পনায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা কান্নাকাটি করছে’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, বিএনপি আগামী দিনে গ্রামীণ জনগণের জন্য কী করবে— সে লক্ষ্যে দলের চেয়ারম্যান দুটি অভিনব সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এই পরিকল্পনা দেখে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাকর্মীদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এর একটি হলো কৃষক কার্ড, আরেকটি হলো ফ্যামেলি কার্ড। কৃষকেরা অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব আনুষঙ্গিক সামগ্রী পাবেন। এতে একশ টাকার পণ্য বিশ বা পঁচিশ টাকায় পাওয়া যাবে, বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে। পাশাপাশি কৃষিযন্ত্রপাতি কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে।

এম নাসের রহমান বলেন, ধরুন আপনার এক কেয়ার জমিতে ২০ মন ধান উৎপাদন হলো, এতে আপনি ২০ হাজার টাকা পাবেন। আর এই ফসল ফলাতে আপনার খরচ হলো আরও ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ মোট ২৫ হাজার টাকার ফসলের জন্য আপনাকে মাত্র ৪০০ বা ৫০০ টাকায় ফসল বীমা করতে হবে। হয়তো আরও কম হতে পারে— এটি তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কোনো কারণে ঝড়, তুফান, বন্যা, খরা বা রোগে ফসল নষ্ট হলে বীমার বিপরীতে বীমা কোম্পানি পুরো ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করবে।

এসব কথা তুলে ধরে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের কাছে জানতে চান, এই কার্ডগুলোর দরকার আছে কি না। তখন সবাই একযোগে ‘দরকার’ বলে জবাব দেন। নাসের রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা দেখে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো কান্নাকাটি করছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামেলি কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের নারীর নামে। স্ত্রীর নামে ছবি সংযুক্ত করে এই কার্ড দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনার নাম ‘স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’। নির্ধারিত দোকান থেকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকার ভুষিমাল বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। কেউ কেউ বলে টাকা দিতে হবে— এটি সম্পূর্ণ ভুল কথা। কোনো টাকা দিতে হবে না।

তিনি বলেন, ভুষিমালের দাম আগেই নির্ধারিত থাকবে। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও লবণের দাম নির্দিষ্ট করা থাকবে। এখানে কম-বেশি করার কোনো সুযোগ থাকবে না। চালের দাম যদি ৫০ টাকা হয়, তাহলে ২০ কেজি চাল নেওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তেল, ডাল ও মসলা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। দরকার নেই— এমন কথা বলা হলে তখন উপস্থিত সবাই একসঙ্গে বলেন, দরকার।

নাসের রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা মাসিক বেতন পাবেন, দুই ঈদে বোনাস পাবেন এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করবেন। একইভাবে সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, খালকাটা কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল কাটা হবে, যা ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে তুলবে।

এম নাসের রহমান বলেন, এ দেশের জনগণ ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে রয়েছে। জনগণের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মা-বোনসহ সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। কোনো নারী যেন ভোট দেওয়া থেকে বাদ না যান— কারণ নারীরা মোট ভোটারের অর্ধেক। আর নারীদের নব্বই শতাংশ ভোট ধানের শীষের পক্ষে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বদরুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102